প্রেমিকার স্বামীকে মেরে ছেলেধরা বলে চলিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা, গ্রেফতার ৪

সৌদি প্রবাসী এক নারীর স্বামীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে রাজশাহীতে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাসপোর্ট করে দেওয়ার নাম করে ওই নারীর স্বামী কাঞ্চনকে তারা বাগেরহাট থেকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে গলাকে’টে হ’ত্যার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, হ’ত্যার পর গলাকা’টা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

কাঞ্চন শিকদার বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামের জালাল শিকদারের ছেলে। রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার হাসেম আলীর ছেলে সজীব (১৯), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ গ্রামের পারভেজ ওরফে মোশারফের ছেলে কাউসার (২০) ও পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার নলুয়াবাগি গ্রামের মজিব মৃধার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৯)। গ্রেফতারকৃতরা পরস্পরের বন্ধু।

তারা ‘এলিট সিকিউরিটি ফোর্স’ নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার নিরাপত্তা কর্মী। এদের মধ্যে রাসেল শেখ নিজেকে কাঞ্চন শিকদারের প্রবাসী স্ত্রী তানিয়ার প্রেমিক বলে দাবি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, বাগেরহাটের গোড়ফা গ্রামের কাঞ্চন শিকদারের সাথে একই এলাকার তানিয়ার বিয়ে হয় ৫ বছর আগে। দেড় বছর আগে তানিয়া সৌদি আরবে চলে যায়। সেখানে তিনি বিউটি পারলারে চাকরি করেন। সৌদি আরবে যাবার আগে একই এলাকার রাসেল তানিয়ার সব কাগজপত্র ঠিকঠাক করে দেয়। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সৌদি আরব থেকেও মোবাইল ফোনে নিয়মিত রাসেলের সাথে যোগাযোগ হতো তানিয়ার। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তানিয়ার দেশে ফেরার আগেই বিয়ের পথ পরিস্কার করতে কাঞ্চনকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করে তারা। এজন্য সৌদি আরব থেকে সে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম রাসেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর স্ত্রীর কাছে কাঞ্চনকে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে রাসেল ও তার তিন বন্ধু দুই দিন আগে কাঞ্চনকে রাজশাহীতে নিয়ে আসে।

About চীপ ইডিটর

View all posts by চীপ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.