এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে গাঁজা বৈধ করলো থাইল্যান্ড

“জাতীয় আইন পরিষদের পক্ষ থেকে এটি থাইল্যান্ড সরকার ও তার জনগণের জন্য নববর্ষের উপহার”

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনাসহ দশটি দেশের পর এবার গাঁজা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার৷ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে জনগণকে গাঁজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট৷ তবে কেবল গবেষণা ও ঔষধ বানানোর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে৷

মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশটির পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৭৯ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়৷

ডয়েচে ভেলে জানায়, জাতীয় আইন পরিষদের পক্ষ থেকে এটি থাইল্যান্ড সরকার ও তার জনগণের জন্য নববর্ষের উপহার বলে মন্তব্য করেন দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণেতা কমিটির প্রধান সোমচাই সাওংকর্ন৷ তিনি বলেন, মাদক বিষয়ক সংশোধিত এ আইন বিভিন্ন ধরনের ঔষধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে৷

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত শারীরিক ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য গাঁজা সেবন করা ছিল একটি প্রচলিত রীতি৷ পরে ১৯৩৫ সালে গাঁজা সেবন, পরিবহন কিংবা বাজারজাতকরণ বিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়৷ ঐ সময়ে প্রণীত আইন অনুযায়ী, গাঁজা উৎপাদন বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য করা হতো এবং দায়ী ব্যাক্তিকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাভোগ কিংবা ৪০ হাজার পাঁচশ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হত৷

তবে নতুন এ আইন প্রবর্তনের ফলে দেশটিতে গাঁজা উৎপাদন বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে৷ গাঁজা ব্যবহারের এ অনুমতির ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো পেটেন্ট অধিকার নিয়ে দেশটির বাজারে প্রবেশ করবে৷ এর ফলে গাঁজা দিয়ে উৎপাদিত ঔষধের দাম সাধারণ রোগীদের নাগালে বাইরে চলে যেতে পারে কিংবা গাঁজার দাম গবেষকদের নাগালে নাও থাকতে পারে৷

দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রজিন জুন্টং সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছর আইনটি বাস্তবায়নের পর গাঁজা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে সরকার৷

About চীপ ইডিটর

View all posts by চীপ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.